নির্মিতিরচনা

রচনাঃ চরিত্র গঠন

চরিত্র গঠন / চরিত্র ও মানবজীবন / চরিত্রই সম্পদ / চরিত্র

আজকের পোস্টে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা শেয়ার করব “চরিত্র গঠন / চরিত্র ও মানবজীবন / চরিত্রই সম্পদ / চরিত্র বাংলা রচনা“। এই রচনাটি আশা করি তোমাদের পরীক্ষায় কমন আসবে। আমরা এই রচনাটি যত সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করেছি – তোমাদের পড়তে সুবিধা হবে। চলো শুরু করা যাক।

চরিত্র গঠন / চরিত্র ও মানবজীবন / চরিত্রই সম্পদ / চরিত্র

ভূমিকা 

চরিত্র মানবজীবনের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মানুষের কথা-কর্ম, চিন্তা-চেতনার যে পরিত্র ভাব মানুষকে ন্যায়ের পথে, সত্যের পথে, সুন্দরের পথে পরিচালিত করে তা-ই চরিত্র। চরিত্রবান একজন মানুষ তার চরিত্রের মহৎগুণ ও উন্নত বৈশিষ্ট্যের জন্যে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

চরিত্র কী 

চরিত্র মানবজীবনের বহুবিধ গুণাবলির একটি সমন্বিত রূপ। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সরলতা, শিষ্টতা, বিনয়, দয়া দাক্ষিণ্য, সংযম প্রভৃতি মহৎ মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিই চরিত্র।

চরিত্রের লক্ষণ 

ন্যায়-নিষ্ঠা, শ্রদ্ধা-ভক্তি, সততা, সংযম প্রভৃতি সদাচার ও গুণাবলি সচ্চরিত্রের লক্ষণ। চরিত্রবান ব্যক্তি কখনোই আদর্শবিচ্যুত হন না। ক্রোধে আত্মহারা হওয়া, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া, নিষ্ঠুর অচরণ করা, ঈর্ষান্বিত হওয়া কোনো চরিত্রবান ব্যক্তির কাজ নয়। সৎ, ন্যায়পরায়ণ, সদালাপী ব্যক্তিই সমাজে চরিত্রবান হিসেবে বিবেচিত হন। 

চরিত্রগঠন 

চরিত্র মানবজীবনের একটি মহৎ অর্জন। চরিত্র আপনা-আপনিই সুগঠিত হয় না— চরিত্রগঠনের জন্য প্রয়োজন সচেতন প্রয়াস ও সদিচ্ছা। শৈশব এবং বাল্যকালই হলো চরিত্রগঠনের উপযুক্ত সময়। পরিবার এবং সমাজ চরিত্রগঠনের অন্যতম ক্ষেত্র। সাধারণত মাতা-পিতা ও অন্যান্য আত্মীয় পরিজনের সাহচর্য ও আদর্শ অনুসারে শিশুর চরিত্র গঠিত হয়ে থাকে। শিশু স্বভাবতই কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং ব্যাপকভাবে অনুকরণ প্রিয়। তাই শৈশবে যেসব গুণাবলি ও অভিজ্ঞতা সে অর্জন করে তা-ই তার চরিত্রে স্থায়ীরূপ লাভ করে। সুস্থ-সুন্দর পরিবেশে শিশু প্রতিপলিত হলে তার চরিত্র সুন্দর হয়। পারিবারিক জীবনে শিশুর চরিত্রগঠনে মাতা-পিতার ভূমিকা অপরিসীম। বাল্যকালে শিশুর সুশিক্ষার ব্যবস্থা করা, চরিত্রবান ব্যক্তির সাথে চলাফেরা করতে দেওয়া, মহৎ ব্যক্তির জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করা, কুসংসর্গে মিশতে না দেওয়া- এসব বিষয়গুলোর প্রতি মাতা-পিতাকে সর্বদাই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পরিবারের বাইরে বিদ্যালয়ে পড়াশুনার মাধ্যমেও চরিত্র সুগঠিত হয়। এটি নির্ভর করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষকের আদর্শ ও সদুপদেশের ওপর

চরিত্রগঠনে ধর্ম 

চরিত্রগঠনে ধর্মের প্রভাব অপরিসীম। ধর্ম মানুষকে নীতি ও আদর্শ শিক্ষা দেয়—সত্য এবং ন্যায়ের পথে চলতে এবং পবিত্র জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। ধর্মের সুমহান শিক্ষাকে যদি কেউ জীবনে ও আচরণে মেনে চলে তবে মানুষ সহজেই মহৎ চরিত্রের অধিকারী হতে পারে। লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ প্রভৃতি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এসব লোভ-লালসাকে যে জয় করতে পারে সেই জীবনে মহত্ত্ব অর্জন করতে পারে। লোভ-লালসা, স্বার্থপরতা প্রভৃতি চরিত্র হননের অন্যতম উপকরণ। কাজেই লোভ- লালসা, অন্যায়, অসাধুতা প্রভৃতি থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে যারা কল্যাণ-চিন্তায় নিবেদিত থাকে তারাই নিজেকে চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

চরিত্রের মহিমা 

সাধনা, কর্মে, পরোপকারে, মানবিক গুণাবলিতে যারা মানবজাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন তাঁদের চরিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে; তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন সচ্চরিত্রের অধিকারী। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সত্যবাদিতা, মানবপ্রেম ও মহৎগুণাবলি সর্বজনবিদিত। যিশুখ্রিষ্টের বিনয় ও সেবা, গৌতমবুদ্ধের অহিংসনীতি, জীবপ্রেম সর্বজনস্বীকৃত। পৃথিবীতে যত মহৎ ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী। তাঁদের চরিত্রের মহৎ-পরশে জগতের অনেক অকল্যাণ দূরীভূত হয়েছে। তাঁদের চরিত্রের দৃঢ়তায় মানবজাতির মহাকল্যাণ সাধিত হয়েছে।

চরিত্রের প্রভাব 

চরিত্র মানুষকে জীবনে এবং কর্মে সাফল্য এনে দেয়। চরিত্রবান ব্যক্তি সকলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করে থাকে। চরিত্রবান ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে অনেক খারাপ ও অসৎ চরিত্রের লোক সৎ ও সুন্দর মানুষে পরিণত হতে পারে। চরিত্রই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় বহন করে। শেখ সাদী বলেছেন, শ্রেষ্ঠ লোক সেই, যিনি কঠিন সত্যের উপাসক এবং চরিত্র ও মহত্ত্ব যার গৌরব।’

চরিত্রহীনতার কুফল 

মানুষের স্বভাবের সৌন্দর্যকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। কিন্তু চরিত্রহীন ব্যক্তি সকলের কাছেই নিন্দনীয় ৷ অসৎচরিত্রের লোক দ্বারা সমাজ ও জাতির কোনো মঙ্গল সাধিত হয় না। চরিত্রহীন ব্যক্তি বিদ্বান হলেও তার কোনো মূল্য নেই ৷ চরিত্রকে যে বিসর্জন দিয়েছে তার মতো নিঃস্ব আর কেউ নেই। কথায় বলে—

‘When money is lost nothing is lost

when health is lost something is lost, when character is lost everything is lost.”

উপসংহার

চরিত্র মানজীবনের একটি মৌলিক সম্পদ। চরিত্রহীন ব্যক্তি পশুর চেয়েও অধম। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজেকে চরিত্রবান করে গড়ে তোলা। কারণ চরিত্র মানব জীবনের মুকুটস্বরূপ ।

আশা করি আজকের পোস্টটি তোমাদের ভালো লেগেছে। তুমি যদি অন্য কোনো রচনা চাও তাহলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাও। ধন্যবাদ।

Related posts

ভাবসম্প্রসারণঃ সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যকে আমরা পরের তরে

Swopnil

রচনাঃ শিষ্টাচার

Swopnil

অনুচ্ছেদঃ প্রিয় জন্মভূমি

Swopnil

Leave a Comment