বাংলারচনা

রচনাঃ ইন্টারনেট

বিশ্বযোগাযোগ ও ইন্টারনেট

আজকের পোস্টে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা শেয়ার করব “বিশ্বযোগাযোগ ও ইন্টারনেট/ইন্টারনেট বাংলা রচনা“। এই রচনাটি আশা করি তোমাদের পরীক্ষায় কমন আসবে। আমরা এই রচনাটি যত সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করেছি – তোমাদের পড়তে সুবিধা হবে। চলো শুরু করা যাক।

ইন্টারনেট / বিশ্বযোগাযোগ ও ইন্টারনেট

ভূমিকা 

বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট বর্তমান সময়ের একটি বিস্ময়কর অবদান। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক খবর আদান-প্রদান, বিমানের টিকেট ক্রয়, সুপার মার্কেটে পণ্যের অনুসন্ধান ও অর্ডার প্রদান, দেশ-বিদেশের লাইব্রেরী থেকে বইয়ের অনুসন্ধান প্রভৃতি কাজগুলো ঘরে বসে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়। যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক যুগ আগে যা ছিল অসম্ভব, বা কল্পনার বিষয়, ইন্টারনেটের অবদানে তা-ই আজ চোখের পলকে সম্পন্ন হচ্ছে।

ইন্টারনেট কী? 

ইন্টারনেট একটি বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থা। মূলত এটি একটি জটিল পদ্ধতি। অসংখ্য সংশ্রয়ের (network) সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কম্পিউটার নেটওয়ার্কই ‘ইন্টারনেট’ নামে অভিহিত। অর্থাৎ ইন্টারনেট হলো নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক বা কম্পিউটারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বা worldwide electronic network. ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানগত সমস্ত কম্পিউটার ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরস্পর অতি দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম। সেই সাথে পরস্পর তথ্যের আদান-প্রদানে সমর্থ । 

ইন্টানেটের উদ্ভব 

সভ্যতার ক্রমবিকাশে মানুষের বিজ্ঞানমনস্ক বুদ্ধি সবসময়ই কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘American Defence Network’ নামে একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলে। উদ্দেশ্য পারমাণবিক আক্রমণ প্রতিরোধে নিজেদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও অন্যান্য খবরাখবর আদান-প্ৰদান করা। এ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার দু’দশকের মধ্যে আমেরিকার কতিপয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় এ নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হয়। আশির দশকের শেষে এ নেটওয়ার্ক কার্যক্রম সাধারণের ব্যবহারের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে কম্পিউটারের সফটওয়্যারের উন্নতির ফলে ইন্টারনেটের প্রসার দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে তা প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় আট কোটি কম্পিউটার ইন্টারনেট সংযোগের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে তা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইন্টারনেট প্রটোকল 

নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সুনির্দিষ্ট নিয়ম পদ্ধতি রয়েছে। তে এ নিয়ম-নীতিই ইন্টারনেট প্রটোকল নামে পরিচিত। দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের নির্দিষ্ট প্রটোকল ছাড়া পারস্পরিক যোগাযোগ ইন্টারনেটের অপকারিতা : বিজ্ঞানের জয়যাত্রার যুগে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের অপব্যবহারের ফলে বিজ্ঞান অনেক ক্ষেত্রে অভিশাপ রূপে দেখা দেয়। এ দোষ বিজ্ঞানের নয় বরং এটি তার ব্যবহারকারীর অসুস্থ চিন্তা-চেতনার প্রতিফল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্য পরিবেশন, পর্ণো ছবি-দর্শন, জুয়া খেলা ইত্যাদির প্রসার ও প্রবণতা বাড়ছে ।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট 

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে। টি. এন্ড টি বোর্ড ইতোমধ্যে VSAT-এর প্রবর্তন করেছে। সেলুলার টেলিফোনও এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উপসংহার 

ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক অবিস্মরণীয় অবদান।

‘Internet is a new device for speedy transmission of notions, news, feeling etc.’

বাংলাদেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে এর সুলভ সম্প্রসারণ প্রয়োজন ।

আশা করি আজকের পোস্টটি তোমাদের ভালো লেগেছে। তুমি যদি অন্য কোনো রচনা চাও তাহলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাও। ধন্যবাদ।

Related posts

অনুচ্ছেদঃ পরীক্ষার পূর্বরাত্রি

Swopnil

রচনাঃ আর্সেনিক দূষণ

Swopnil

অনুচ্ছেদঃ যৌতুক

Swopnil

Leave a Comment