নির্মিতিরচনা

রচনাঃ নদীতীরে সূর্যাস্ত

নদীতীরে সূর্যাস্ত / নদীতীরে সূর্যাস্তের দৃশ্যনদীতীরে / সূর্যাস্তের অনুভূতি

আজকের পোস্টে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা শেয়ার করব “নদীতীরে সূর্যাস্ত / নদীতীরে সূর্যাস্তের দৃশ্যনদীতীরে / সূর্যাস্তের অনুভূতি বাংলা রচনা“। এই রচনাটি আশা করি তোমাদের পরীক্ষায় কমন আসবে। আমরা এই রচনাটি যত সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করেছি – তোমাদের পড়তে সুবিধা হবে। চলো শুরু করা যাক।

নদীতীরে সূর্যাস্ত / নদীতীরে সূর্যাস্তের দৃশ্য নদীতীরে / সূর্যাস্তের অনুভূতি

ভূমিকা 

নদীমাতৃক বাংলাদেশ তার সবুজ পটভূমিতে ধরে রেখেছে রুপালি স্রোতধারা। সবুজ শস্যক্ষেত আর গ্রাম-নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী অপরূপ সৌন্দর্যে বিন্যস্ত। নদী প্রাণবন্ত উচ্ছলতার প্রতীক। এ নদীতীরে সূর্যাস্তের দৃশ্য অপরূপ সৌন্দর্যের মোহনীয় চিত্রপট। দিবসের তপ্তসূর্য ম্লান হতে হতে একসময় অস্ত যায় পশ্চিম আকাশে। সন্ধ্যার আবির রঙে ভরে ওঠে অস্তাচল ৷ নদীর বহমান জলতরঙ্গে লাবণ্যের রং ঢেলে দেয় অস্তমিত রক্তলাল সূর্য ।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও নদী

ধনধান্য পুষ্প ভরা রূপসি বাংলার বিন্যস্ত সৌন্দর্যের মধ্যে নদীর সর্পিল বিস্তার অনুপম সৌন্দর্যের দৃশ্যগাঁথা। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ‘ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, তিতাস, করতোয়া, আত্রাই, মধুমতি, শীতলক্ষ্যা, কর্ণফুলি, সাংগু, মাতামুহুরি, রূপসা, কিত্তনখোলা, গড়াই, গোমতী, চিত্রা, বাঁকখালী, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা প্রভৃতি নদী বাংলাদেশের সৌন্দর্যকে রুপালি আলেখ্যে কাব্যময় করে তুলেছে। আঁকাবাঁকা ছুটে চলা নদীর তীরে ভিড় করে আছে সবুজ শ্যামল গ্রাম। কাশের গুচ্ছ কিংবা হিজলের ঝরে পড়া ফুল কিংবা তীরে তীরে তমালের সারি সৌন্দর্য-প্রেমিকের চৈতন্যকে ছুঁয়ে যায় সম্মোহিত আবেগে। নদীর বুকে অবগাহন দৃশ্য, পাল তোলা কিংবা গুণটানা নৌকা, জেলেদের মাছ ধরা সমস্ত কিছুর মধ্যেই একটা তৃপ্তিকর মুগ্ধতা বিরাজ করে। বর্ষা শেষে নদীগুলো ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে পড়ে। শরতে নদীতীরের কাশের গুচ্ছ অপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে। হেমন্তে ভিরু কুয়াশার হিমশীতল আবেশে নদীবক্ষে জাগে ছোটো ছোটো ঢেউয়ের অভিঘাত। শীতের ক্ষীণতোয়া নদী স্বচ্ছ জলে মৃদু মন্দ বয়ে যায়। চৈত্র- বৈশাখে নদীবক্ষে ধূসর বালুচর জাগে। পাখিদের ভিড়ে মুখর থাকে নদীর বুক। বর্ষা কিংবা শীত-গ্রীষ্মে ভিন্ন ভিন্ন আমেজে পরিস্ফুট হয় নদীর সৌন্দর্য। রবীন্দ্রনাথ নদীর বর্ণনায় লিখেছেন :

‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে ।’

সূর্যাস্তের সময় নদীর দৃশ্য 

মধ্যাহ্নের উজ্জ্বল সূর্য পড়ন্ত বিকেলে ধীরে ধীরে রং বদলাতে শুরু করে। গ্রীষ্ম, বর্ষায়, শরতে, হেমন্তে, শীত কিংবা বসন্তে সূর্যাস্তের সময় একেক রকম দৃশ্য উন্মোচিত হয়। বর্ষায় নদী যেমন বিস্ফোরিত সৌন্দর্যে জলের কল্লোলে বয়ে যায় তেমনি সব ঋতুর চেয়ে বর্ষাকালেই সূর্যাস্তের সময় নদীর দৃশ্য সবচেয়ে বেশি মুগ্ধতাকে উন্মোচিত করে। বড় বড় নদীগুলোর দূরের দিগন্ত রেখায় গলিত অগ্নিপিণ্ডের মতো যখন সূর্য অস্ত যায়- তরঙ্গ বিক্ষুদ্ধ নদীর বুক আর সমস্ত প্রকৃতি তখন মোহনীয় সৌন্দর্যের সাজ পরে। সন্ধ্যার আকাশ সাঁতরে পাখিরা ঘরে ফেরে। ডানায় তাদের শান্ত সন্ধ্যার রং! নৌকার পালে রঙের আলিম্পন জাগে। বিশাল লাল রক্তবর্ণের সূর্য নদীর জলে ধীরে ধীরে ডুবিয়ে দেয় তার ক্লান্ত দেহ। অবগাহনের আনন্দে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে রঙের ফোয়ারা। আকাশের ভাঙ্গা মেঘে প্রতিফলিত হয় বিচিত্র বর্ণশোভা। নদীর উদ্বেল তরঙ্গরাশি রক্তের বর্ণরেখায় চরণে আল্পনা আঁকে। শান্ত সন্ধ্যায় দিবসের শেষ সংগীতে সমতালে মুখর হয় ঝোপঝাড়ের পাখি। রাঙা সন্ধ্যার আলতা পায়ে গ্ৰাম্য বধূরা কলসি ভরে ঘরে ফেরে। ঘাটে বাঁধা নৌকাগুলো সূর্যাস্তের রঙে টেউয়ের তালে মৃদু-মন্দ দোল খায়। নদীবক্ষে প্রতিবিম্বিত সূর্য একসময় ডুবে যায় অতল জলের গভীরে। তবুও পশ্চাতে দীর্ঘক্ষণ রেখে যায় তার রঙের বিচিত্র আবেশ। কবির অনুভূতিতে তখন ধ্বনিত হয় :

‘সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা আঁধারে মলিন হল, যেন খাপে-ঢাকা বাঁকা তলোয়ার!

দিনের ভাঁটার শেষে রাত্রির জোয়ার

এল (…..) তার ভেসে আসা তারাফুল নিয়ে।’

উপসংহার 

নদীতীরে সূর্যাস্তের শোভা মানুষের মনকে আবেগে বিমুগ্ধ করে তোলে। সন্ধ্যার রাঙা-উন্মেষের স্নিগ্ধ বর্ণচ্ছটা চঞ্চল নদীকে পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে অভিষিক্ত করে। তরঙ্গ দোলা নদীর বুক তখন হয়ে ওঠে মোহনীয় সৌন্দর্যের দৃশ্যপট। প্রতিটি তরঙ্গের শীর্ষে শীর্ষে জ্বলে ওঠে অসংখ্য সূর্যের লাবণ্য। নিস্তব্ধ প্রশান্তি উন্মোচিত করে সূর্যাস্তের বর্ণময় প্রমত্ত সৌন্দর্য। নদীতীরে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য এক তুলনাহীন ক্ষণস্থায়ী চিত্রগাঁথা ৷ তার সবটুকু আয়োজন কেবলই অপূর্ব আর অপূর্ব ভালোলাগার।

আশা করি আজকের পোস্টটি তোমাদের ভালো লেগেছে। তুমি যদি অন্য কোনো রচনা চাও তাহলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাও। ধন্যবাদ।

Related posts

ভাবসম্প্রসারণঃ মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে

Swopnil

পত্রঃ বনভোজনে যাবার আমন্ত্রণ জানিয়ে বন্ধুকে একখানা পত্র লেখ

Swopnil

রচনাঃ মে দিবস

Swopnil

Leave a Comment