ভাবসম্প্রসারণনির্মিতিবাংলা

ভাবসম্প্রসারণঃ পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না

ভাবসম্প্রসারণঃ পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে, স্বাগত জানাচ্ছি আমাদের ওয়েবসাইটে। আজকের এই পোস্টে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস শেয়ার করতে যাচ্ছি (ভাবসম্প্রসারণঃ পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না) যা আমরা যারা স্টুডেন্ট আছি, তাদের জন্য। আমাদের অনেকেরই স্কুলের বিভিন্ন পড়ার জন্য ভাব সম্প্রসারণ প্রয়োজন হয়। আমাদের অনেকের কাছে বই থাকে না। সেই কারণে আমরা অনলাইনে ভাবসম্প্রসারণ গুলো খুঁজে থাকি।

সেই কারণে আমাদের আজকের এই পোস্টে আমরা খুবই সহজ ভাষায় “পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না” ভাব সম্প্রসারণ টি শেয়ার করব। এটি পড়ার পরে তুমি সহজেই মুখস্থ করতে পারবে কারণ আমরা কোনো কঠিন ভাষা ব্যবহার করে এটি লিখিনি। যার কারণে তোমার এটা মনে রাখতেও সুবিধা হবে এবং তুমি বুঝতে পারবে। তাহলে চলো শুরু করা যাক এবং দেখা যাক “পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না” ভাবসম্প্রসারণটি।

ভাবসম্প্রসারণঃ পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে।
আসে নাই কেহ অবনী পরে।
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
পরের জন্য হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও

মূলভাব: অপরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। ফুল যেমন তারা অপার সৌন্দর্য বিলিয়ে মানুষের মনকে বিমোহিত করো, তেমনি মহৎ হৃদয় ব্যক্তিগণও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাে

সম্প্রসারিত ভাব: ফুল সৌন্দর্যের আধার। সদ্য ফোটা ফুল তার বাখারি রূপে সকলের মন কাড়ে। তার সৌরভ মানুষের মনকে ভরিয়ে তোলে। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছি। আবার ফুলের পরিণত রূপই হলো ফল। আর ফল থেকে মানুষ এবং পশুপাখি খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে। মূল তার অপার সৌন্দর্য ও সৌরভ চারদিকে ছড়িে আবার করে পড়ে। নিজের জন্য সে কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখে না। তেমনি মধ্যমানবগণও জগতের কল্যাণের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেন। অপরের কল্যাণের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই তাঁরা পরম আনন্দ লাভ করেন। ফুলের আদর্শে উজ্জীবিত মহামানবগণ অপরের মঙ্গল সাধনের মধ্য দিয়ে রচনা করেন নতুন ইতিহাস।

See also  ভাবসম্প্রসারণঃ কত বড় আমি' কহে নকল হীরাটি, তাই তো সন্দেহ করি, ' নহ ঠিক খাঁটি '

মন্তব্য: সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তা কখনো সুখ এনে দিতে পারে না। ড্যাগ, ক্ষমা এবং অপরের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই জীবনে প্রকৃত সুখ লাভ করা সম্ভব।

তোমাদের সুবিধার জন্য আমরা এই ভাবসম্প্রসারণের আরও একটি ভার্সন দিয়ে দিচ্ছি, তোমার কাছে যেটি সহজ এবং ভালো মনে হয় – তুমি সেটি ফলো করতে পারো।

ভাবসম্প্রসারণঃ পরের জন্য হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও / পুষ্প আপনার জন্যে ফোটে না

ভাব-সম্প্রসারণ: পরের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার মাধ্যমে মানবজীবন সার্থকতায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফুলের মতোই মানুষের জীবন। ফুল ফোটে সুবাস ছড়ায়। তার সৌরভে চারদিক আমোদিত হয়। এভাবে সৌরভ ছড়ানোর মধ্যেই সে নিজের সার্থকতা খুঁজে পায়।

সমাজের কল্যাণে নিজেদের নিঃশেষে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে আছে পরম সুখ, অনির্বচনীয় আনন্দ ও অপরিসীম পরিতৃপ্তি। পুষ্প যেন মানবব্ৰতী জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। সে কখনো তার নিজের জন্য ফোটে না। সে তার সৌরভ ও সৌন্দর্যে সকলকে মোহিত করে। ফুলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করে যেমন ভ্রমর, মৌমাছি, প্রজাপতি তেমনি সৌন্দর্য- পিপাসু মানুষের মনও ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। তার সৌরভে মন উদ্বেল হয়। মৌমাছি তার মধু পান করে পরিতৃপ্ত হয়।

আবার, পবিত্রতার প্রতীক বলে ফুল দেবতার চরণে নিবেদিত হয় নৈবেদ্য হিসেবে। আমরা প্রিয়জনকে ফুল উপহার দিই, শ্রদ্ধা ও স্বাগত জানাতে শহিদমিনারে, স্মৃতিসৌধে ফুল দিই। ফুল দিয়ে কাউকে যেমন বরণ করি হয়। ফুল আবার কালক্রমে পরিণত হয় ফলে। সেই ফল আমাদন করে পরিতৃপ্ত হয় মানুষ। ক্ষুধা নিবৃত্তি করে বনের আবার বিদায় ও চিরবিদায়েও দিই ফুল। তাই দেখা যায় আমাদের জীবনের নানারূপ আবেগ-অনুভূতিতে ফুল জড়িয়ে আছে। এভাবে ফুলের সৌরভ ও সৌন্দর্য তার নিজের হলেও সকলের কাছে নিজেকে উজাড় করে দিয়েই সে তৃপ্ত। মানুষের জীবনও অনেকটা ফুলের মতো। মানুষের চারিত্রিক মাধুর্যও হওয়া উচিত ফুলের মতোই সুন্দর ও সুরভিত, স্বার্থের জন্যেই জন্মগ্রহণ করেনি। পরের কল্যাণে জীবনকে উৎসর্গ করার মাঝেই তার জীবনের চরম ও পরম সার্থকতা। পরের কল্যাণ সাধনই মহত্ত্বের লক্ষণ। জগতের সাধু ও মহৎ ব্যক্তিগণও তাই করেন। তাঁরা সর্বদা পরের হিত সাধনে ব্যাপৃত থাকেন এবং পরের তরে জীবন বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। কেননা ব্যক্তিস্বার্থ পরিহারের মাধ্যমেই সমাজ সুন্দর ও সার্থক হয়ে ওঠে। মহৎ ব্যক্তিগণ বিশ্বমানবের। তাঁরা সকলের প্রিয় এবং সকলের আপনজন। তাঁদের জীবন পুষ্পের ন্যায় পরের জন্য উৎসর্গীকৃত। তাই মানুষকে ব্যক্তিস্বার্থের কথা না ভেবে সবার স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। হৃদয়কে ফুলের মতো বিকশিত করতে হবে।

See also  অনুচ্ছেদঃ কম্পিউটার

পুষ্পের এই যে আত্মোৎসর্গ, পরের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেওয়া — এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। এ শিক্ষা বিনয়ী হওয়ার, এ-শিক্ষা নিজের জীবন দিয়ে অন্যকে সুন্দর ও সুখী করার শিক্ষা। তবেই মানুষের জীবন হয়ে উঠবে আনন্দঘন ও কল্যাণময়।

আরও পড়ুনঃ

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে ভাব সম্প্রসারণ যেটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছে। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই ভাব সম্প্রসারণ নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Related posts

অনুচ্ছেদঃ ইন্টারনেট

Swopnil

রচনাঃ একুশে ফেব্রুয়ারি

Swopnil

অনুচ্ছেদঃ শৃঙ্খলা

Swopnil

Leave a Comment