নির্মিতিবাংলাভাবসম্প্রসারণ

ভাবসম্প্রসারণঃ দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে, সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার

দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে, সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার

আজকের পোস্টে তোমাকে স্বাগতম। আজকের এই পোস্টে আমরা একটি ভাবসম্প্রসারণ দেখব – দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে, সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার। এই ভাবসম্প্রসারণটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাবসম্প্রসারণ। এটি অনেকবার পরীক্ষায় কমন পড়ে।

তুমি যেই শ্রেণিতেই পড়োনা কেন – এই ভাবসম্প্রসারণটি যদি তুমি মুখস্ত রাখো তাহলে তোমার পরীক্ষায় কমন পড়ার চান্স অনেক বেশি। আর এইজন্যই আজকে আমরা একটি খুবই সহজ এবং মুখস্ত করার মতো ভাবসম্প্রসারণ নিয়ে এসেছি।

তাহলে চলো, শুরু করা যাক।

দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে, সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার

মুলভাব: যে বিচারক দণ্ডদাতা হয়েও দণ্ডিতের জন্য সহানুভূতিবোধ করেন, তার জন্য ব্যথিত হন, তাঁর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার ।

সম্প্রসারিত ভাব : অপরাধের জন্য দণ্ডদানের বিধান সামাজিক কল্যাণের একটি আইনানুগ রীতি। এ দণ্ডদান নির্মম ও নিষ্ঠুর হলেও সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষার জন্য একান্তই অপরিহার্য। বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাজ থেকে অন্যায়-অনাচারের মূলোৎপাটনে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে অপরাধীকে শাস্তিদান অপরিহার্য হয়ে পড়ে। বিচারক অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে বিভিন্ন দত্ত প্রদান করে অপরাপর অপরাধীর মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয় এবং তারা অন্যায়ের কৃতকর্ম সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে এবং অপরাধের পথ ত্যাগ করে। থাকেন। বিচারে অপরাধীর সাজা হয়। অপরাধী অন্যায়ের প্রতিফল ভোগ করে থাকে। অপরাধীর প্রতি শাস্তির কঠোরতা। সমাজের শান্তি রক্ষা ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দণ্ডদান একটি স্বীকৃত বিধি হলেও শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধীর প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন প্রয়োজন কারণ যিনি অপরাধী তিনিও একজন মানুষ। তাই দণ্ডদানের সময় বিচারককে অপরাধীর প্রতি সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। তা না হয়ে বিচারক যদি নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দণ্ডদান করেন এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতি যদি তাঁর অন্তর বিচারককে খেয়াল রাখতে হবে যে, অপরাধীও কোনো না কোনো জনক-জননীর স্নেহের সন্তান । দণ্ডদানকালে বিচারকের মনে যদি এ করুণায় বিগলিত না হয় তবে সে বিচার হবে প্রবলের অত্যাচার এবং দণ্ডদানকারী হবেন বিচারক পদের অযোগ্য। দণ্ডদানের সময় বোধটুকু জাগ্রত হয় তবেই সেই বিচারকার্য নিষ্ঠুরতায় পর্যবসিত হবে না। কারণ সমব্যথী বিচারকের বিচারকার্যই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার। মনে রাখতে হবে, “The judge is not real judge who has no humanitation feeling for the accured”

মন্তব্য : যে বিচার কেবল নিষ্ঠুর বিভীষিকা সৃষ্টি করে সমাজ বিরোধী কার্যকলাপকে বন্ধ করে, সে বিচারের সফলতা সাময়িক। প্রীতি, মমত্ব ও সংবেদনশীলতার স্পর্শ ছাড়া ন্যায়ের পথে মানুষকে জাগরিত করা দুঃসাধ্য।

আরও পড়ুনঃ

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে ভাব সম্প্রসারণ যেটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই ভাব সম্প্রসারণ নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Related posts

অনুচ্ছেদঃ যৌতুক

Swopnil

রচনাঃ টেলিভিশন

Swopnil

ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম ও পদ্ধতি

Swopnil

Leave a Comment