বাংলাঅনুচ্ছেদনির্মিতি

অনুচ্ছেদঃ শীতের সকাল

mountain range near snowfield

আজকের পোস্টে তোমাকে স্বাগতম। আজকের এই পোস্টে আমরা একটি  অনুচ্ছেদ দেখব – শীতের সকাল। এইটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুচ্ছেদ। এটি অনেকবার পরীক্ষায় কমন পড়ে।

তুমি যেই শ্রেণিতেই পড়োনা কেন – এইটি যদি তুমি মুখস্ত রাখো তাহলে তোমার পরীক্ষায় কমন পড়ার চান্স অনেক বেশি। আর এইজন্যই আজকে আমরা একটি খুবই সহজ এবং মুখস্ত করার মতো অনুচ্ছেদ নিয়ে এসেছি।

তাহলে চলো, শুরু করা যাক।

শীতের সকাল

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। প্রতিটি ঋতুই রঙে ও রূপে, ছন্দে ও সুরে স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঋতুর আবর্তনের মধ্যে প্রতিফলিত। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এ ছয়টি ঋতু তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহের তারতম্যে একটি আরেকটি থেকে আলাদা। বাংলাদেশের ঋতুচিত্রে শীতের সকাল ভিন্নধর্মী আবহে দৃশ্যমান। কুয়াশার আবরণে ও ঠাণ্ডার প্রকম্পনে শীতের সকাল বাংলার গ্রাম ও নগর জীবনে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ধরা দেয়। শীতের সকালে কুয়াশার আবরণে ঢাকা থাকে রক্তিম সূর্য। টুপ্‌টাপ্‌ ঝরে পড়ে শিশির বিন্দু। ঘাসের ডগায়, সর্যের পাপড়িতে জমে থাকে রূপালি শিশির। লেপ-কাঁথা ফেলে কেউ সহজে তখন ঝিমিয়ে পড়া জীবন প্রবাহ জেগে ওঠে মৃদু বাইরে বেরুতে চায় না। কুয়াশার অবগুণ্ঠন ঠেলে যখন জ্বলে ওঠে ভীরু সূর্য – উত্তাপের আশ্বাসে । শীতের সকালে কর্মমুখর জীবনের এক ভিন্ন প্রবাহ লক্ষ করা যায়। জীবিকার টানে কর্মজীবী মানুষ শীত-সকালের প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর কুয়াশা উপেক্ষা করে পা বাড়ায় পথে। চাকুরিজীবী, জেলে, তাঁতি, কৃষক-শ্রমিক সবাই ছুটে নিজ নিজ কর্মস্থলে। শীতের সকালে গ্রামবাংলা কুয়াশার আবরণে ঢাকা থাকে। মাঠ-প্রান্তর, ঘর-দোর, গাছ-পালা, ক্ষেত-খামার সবই থাকে দৃষ্টির অগোচরে । শীতের প্রকোপে কাঁপতে থাকে ছেলে-বুড়ো সকলে। কাঁথা-কম্বল, চাদরের আবরণে সকলেই চেষ্টা করে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে। অনেকেই খড়-কুটো নাড়ার কুণ্ডলী জেলে শীত নিবারণের ব্যবস্থা করে। গ্রামীণ-জীবনে শীতের সকালে এ এক চিরপরিচিত দৃশ্য। কুয়াশার অবগুণ্ঠন ঢেলে সূর্য উকি দিলে পরম স্বস্তিতে শীতার্ত জনজীবন নিজেদের মেলে ধরে মিষ্টি রোদের উত্তাপে । শীতের সকালে মিষ্টি রোদে মুড়ি-মুড়কি খাওয়ার দৃশ্য গ্রামজীবনের এক উপাদেয় সুখ। খেজুরের রস শীতের সকালের এক সুমিষ্ট পানীয়। শীতের সকালে নগরজীবনও ঢাকা পড়ে কুয়াশার চাদরে। লেপ-কাঁথার উষ্ণতা ছেড়ে ওঠতে ইচ্ছে না করলেও কর্মজীবীদের ছুটতে হয় কর্মস্থলে। রিকশাচালক, বাস চালক, টেক্সি চালক, ট্রাক ড্রাইভার সকলেই শীতকে উপেক্ষা করে ব্যস্ত হয়ে পড়ে গাড়ি চালনায় ৷ শীতের সকালে সরগরম হয়ে ওঠে চায়ের দোকানগুলো। বাংলাদেশের জনজীবনে শীতের সকাল কষ্টকর হলেও এর মনোরম এভাবটুকু সবার কাছেই উপভোগ্য ।

See also  ভাবসম্প্রসারণঃ শৈবাল দীঘিরে বলে উচ্চ করি শির, লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে যে আবেদন পত্রটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই পত্র নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Related posts

ভাবসম্প্রসারণঃ তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?

Swopnil

রচনাঃ পহেলা বৈশাখ

Swopnil

রচনাঃ বিদ্যুৎ

Swopnil

Leave a Comment