চিঠিনির্মিতিবাংলা

পত্রঃ তোমার দেখা একটি মেলার বর্ণনা দিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র লেখ

তোমার দেখা একটি মেলার বর্ণনা দিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র লেখ

আজকের পোস্টে তোমাকে স্বাগতম। আজকের এই পোস্টে আমরা একটি পত্র দেখব – তোমার দেখা একটি মেলার বর্ণনা দিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র লেখ। এই পত্রটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পত্র। এটি অনেকবার পরীক্ষায় কমন পড়ে।

তুমি যেই শ্রেণিতেই পড়োনা কেন – এই পত্রটি যদি তুমি মুখস্ত রাখো তাহলে তোমার পরীক্ষায় কমন পড়ার চান্স অনেক বেশি। আর এইজন্যই আজকে আমরা একটি খুবই সহজ এবং মুখস্ত করার মতো পত্র নিয়ে এসেছি।

তাহলে চলো, শুরু করা যাক।

তোমার দেখা একটি মেলার বর্ণনা দিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র লেখ

২ বৈশাখ, ১৪২৫

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

প্রিয় শিপলু,

নববর্ষের শুভেচ্ছাসহ ভালোবাসা নিও। আশা করি ভালো আছ। আমার দেখা একটি মেলার বর্ণনা দিতে আজ এ পত্র-আয়োজন । গ্রাম-বাংলার অন্যতম আনন্দ উপকরণ মেলা। গ্রামের সকল শ্রেণির মানুষ এ মেলার মধ্যে এক সর্বজনীন উৎসবের আনন্দ খোঁজে পঞ্চবটী তলায় পহেলা বৈশাখে মেলা বসে। এ মেলাটি ‘পঞ্চবটী বৈশাখী মেলা’ নামে পরিচিত। কোনো উৎসব উপলক্ষে মুক্ত অঙ্গনে সকল গ্রামবাসীর উচ্ছ্বসিত মিলনস্থান হলো মেলা। প্রতি বছরই আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামে বাঁশি, কোথাও মিষ্টি, মণ্ডা, দধি, দুগ্ধ, জিলাপি, কোথাও খেলনা-মুকুট, বিন্নি-বাতাসা, বাঁশ ও বেতের আসবাবপত্র মাটির হাঁড়ি- বিশাল এলাকা জুড়ে অস্থায়ী ছোটো ছোটো দোকানের সারি। একেক সারিতে একেক রকম পণ্যের সম্ভার। কোথাও পুতুল, খেলনা, পাতিল খেলনা ও নানারকম হস্তশিল্পের পণ্য-সম্ভারও এ মেলায় ওঠেছিল। বিনোদনের জন্যে ছিল চড়ক গাছ, সার্কাস, ম্যাজিক, লোকসংগীত ইত্যাদি। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের সমাগম ছিল সবচেয়ে বেশি। তাদের আনন্দও ছিল অফুরন্ত। তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই হাতে ছিল বাঁশি কিংবা খেলনা। সারা বিকেল ধরে এ মেলায় ঘুরে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করেছি। কামার, কুমার, কাঠমিস্ত্রি, অন্যান্য কারিগরে জন্যে বৈশাখী মেলা একটি প্রদর্শনী স্থল। এ মেলা থেকে পছন্দমতো জিনিস বেশ সস্তায় জয় করা যায় । আমি এ মেলা থেকে ছোটো বোনের জন্যে খেলনা এবং মায়ের জন্য সাংসারিক কিছু তৈজসপত্র কিনেছি।

গ্রাম-বাংলার মেলাগুলো আজও অফুরন্ত আনন্দের ভাণ্ডার । আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম উৎসব। আধুনিকতার রাহুগ্রাস থেকে গ্রামজীবনের এ ঐতিহ্যকে রক্ষা করা আমাদের সকলের কর্তব্য। তুমি সাথে থাকলে আরো আনন্দ পেতাম। তোমার আনন্দময় জীবন কামনা করে শেষ করছি।

ইতি

তোমার বন্ধু

রায়হান

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে যে পত্রটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই পত্র নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Related posts

রচনাঃ বাংলাদেশের ষড়ঋতু

Swopnil

ভাবসম্প্রসারণঃ মুকুট পরা শক্ত, কিন্তু মুকুট ত্যাগ করা আরও কঠিন।

Swopnil

ভাবসম্প্রসারণঃ আলো বলে, অন্ধকার তুই বড় কালো, অন্ধকার বলে, তাই তুমি আলো

Swopnil

Leave a Comment