বাংলাঅনুচ্ছেদনির্মিতি

অনুচ্ছেদঃ পরিবেশ দূষণ

পরিবেশ দূষণ

আজকের পোস্টে তোমাকে স্বাগতম। আজকের এই পোস্টে আমরা একটি  অনুচ্ছেদ দেখব – পরিবেশ দূষণ। এইটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুচ্ছেদ। এটি অনেকবার পরীক্ষায় কমন পড়ে।

তুমি যেই শ্রেণিতেই পড়োনা কেন – এইটি যদি তুমি মুখস্ত রাখো তাহলে তোমার পরীক্ষায় কমন পড়ার চান্স অনেক বেশি। আর এইজন্যই আজকে আমরা একটি খুবই সহজ এবং মুখস্ত করার মতো অনুচ্ছেদ নিয়ে এসেছি।

তাহলে চলো, শুরু করা যাক।

পরিবেশ দূষণ

বিশ্ব-পরিমণ্ডলে আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তাই নিয়ে আমাদের পরিবেশ। অর্থাৎ পরিবেশ বলতে একটি জীবের চারপাশের আলো, বাতাস, মাটি, পানি, শব্দ, তাপ, পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, নদ-নদী, সাগর, খনিজ দ্রব্য, মনুষ্যসৃষ্ট অবকাঠামোসহ গোটা জীবজগৎকে বোঝায়। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে তার পরিবেশ। পরিবেশের অনুকূলতায় মানুষ, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন পারস্পরিক নির্ভরশীলতায় বিকাশ লাভ করে। পরিবেশের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনই পরিবেশ দূষণ নামে অভিহিত । বহু প্রাচীনকাল থেকে মানুষ দ্বারা পরিবেশ দূষিত হয়ে আসছে। মানবসভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে । প্রতিবেশগতভাবে পরিবেশ দূষণকে চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা : বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, মাটি দূষণ ও শব্দ দূষণ । উল্লেখ্য যে, বায়ু একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান। জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য বিশুদ্ধ বায়ু এবং এর উপাদানসমূহের স্বাভাবিক মাত্রা অত্যাবশ্যক। বায়ুতে কোনো পদার্থ যখন এমন মাত্রায় অবস্থান করে যা মানুষ এবং তার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তখন সেই অবস্থাকে বায়ু দূষণ বলে। শিল্প কারখানার নিগর্ত ধোঁয়া, পারমাণবিক বিস্ফোরণ, যানবাহন থেকে নিগর্ত কার্বন মনো-অক্সাইড গ্যাস, জীবাশ্ম জ্বালানি, কীটনাশক, ইটভাটার কালো ধোঁয়া প্রভৃতি বায়ু দূষণের উপকরণ। মানুষের শ্বাস- প্রশ্বাসে কষ্ট, এজমা, ব্রোংকাইটিস, ফুসফুস ক্যান্সার প্রভৃতি বায়ু দূষণের প্রতিফল। জীবের ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টিকারী পানির যেকোনো ভৌত বা রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনই পানি দূষণ হিসেবে অভিহিত। মানুষ ও প্রাণীর বর্জ্য, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার, নদী-নালায় নিক্ষিপ্ত শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, অম্ল-বৃষ্টি প্রভৃতি পানি দূষণের অন্যতম কারণ । মাটি ভূত্বকের উপরিভাগের আবরণ। মাটির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। মৃত্তিকা দূষণ হলো মাটির প্রয়োজনীয় উপাদানের হ্রাস ও অবাঞ্ছিত পদার্থ সমূহের সঞ্চয়- যা প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের জন্য ক্ষতিকর ও অমঙ্গলজনক। ভূমি ক্ষয়, বৃষ্টিপাত, বায়ু প্রবাহ, গাছ কাটা, বন উজাড়, জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রভৃতি কারণে মাটি দূষণ ঘটে । বর্তমান কালের আরেকটি গুরুতর সমস্যা হচ্ছে শব্দ দূষণ । শব্দ দূষণের মূল উৎসগুলো হচ্ছে- গাড়ির হর্ন, বাজি বা পটকার আওয়াজ, রেডিও টেলিভিশনের আওয়াজ, মাইকের শব্দ, কলকারখানার শব্দ প্রভৃতি। এ ছাড়াও নানা ধরনের দূষণ রয়েছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সুস্থ-সুন্দর জীবন নির্বাহের জন্য প্রয়োজন দূষণমুক্ত পরিবেশ। পরিবেশ শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ, নিবিড় বন সৃজন, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের বিকল্প পদ্ধতি নির্ণয়, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করা গেলে এ পৃথিবী আবার সকল জীবের নিরাপদ আবাসে পরিণত হবে। বাসযোগ্য নিরাপদ একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে সবারই পরিবেশ সচেতন হওয়া উচিত ।

See also  রচনাঃ জাতিগঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে যে আবেদন পত্রটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই পত্র নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Related posts

রচনাঃ কৃষিকাজে বিজ্ঞান 

Swopnil

অনুচ্ছেদঃ বিদ্যালয়ের শেষ দিন

Swopnil

ভাবসম্প্রসারণঃ লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু

Swopnil

Leave a Comment