নির্মিতিবাংলাভাবসম্প্রসারণ

ভাবসম্প্রসারণঃ পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন, নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন

শুন হে মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই

আজকের পোস্টে তোমাকে স্বাগতম। আজকের এই পোস্টে আমরা একটি ভাবসম্প্রসারণ দেখব – শুন হে মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই । এই ভাবসম্প্রসারণটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাবসম্প্রসারণ। এটি অনেকবার পরীক্ষায় কমন পড়ে।

তুমি যেই শ্রেণিতেই পড়োনা কেন – এই ভাবসম্প্রসারণটি যদি তুমি মুখস্ত রাখো তাহলে তোমার পরীক্ষায় কমন পড়ার চান্স অনেক বেশি। আর এইজন্যই আজকে আমরা একটি খুবই সহজ এবং মুখস্ত করার মতো ভাবসম্প্রসারণ নিয়ে এসেছি।

তাহলে চলো, শুরু করা যাক।

শুন হে মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই

মুলভাব : সৃষ্টি-জগতে মানুষ যেমন শ্রেষ্ঠ তেমনি তার মর্যাদাও সবার ওপরে ।

সম্প্রসারিত ভাব : জগতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মূলে রয়েছে তার জ্ঞান-গরিমা, বিদ্যা-বুদ্ধি, দয়া-দাক্ষিণ্য প্রভৃতি গুণাবলি । মহান স্রষ্টা মানুষকে বিবেকসম্পন্ন করে অন্যান্য সৃষ্টি থেকে তাকে বিরল সম্মানে মর্যাদাশীল করেছেন। কিন্তু জগতে নানা বিধিনিষেধ, নীতি ও আদর্শ, ভেদ ও বৈষম্যের বেড়াজাল মানুষের জীবনে সৃষ্টি করেছে নানা বৈষম্য। সৃষ্টি হয়েছে ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নীচু, বর্ণভেদ, জাতিভেদ’ প্রভৃতি । প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকার পেরিয়ে এসেও সভ্যতার চরম উৎকর্ষের যুগেও আমরা ব্যর্থ হচ্ছি অখণ্ড মানবসত্তাকে উপলব্ধি করতে। আজ বিশ্বব্যাপী চলছে যুদ্ধ-বিগ্রহ, রক্তপাত, হানাহানি প্রভৃতি লোমহর্ষক কর্মকাণ্ড। সর্বত্রই পদদলিত হচ্ছে মানুষের মর্যাদা। মানুষের প্রতি মানুষের মর্যাদাহীনতার জন্য বিশ্বমানব আজ চরম সংকটে পতিত হয়েছে। জাতিগত অহংকার, বিত্তগত অহংকার, বর্ণগত অহংকার, সম্প্রদায়গত অহংকার, বংশগত অহংকার প্রভৃতি প্রভেদের প্রাচীর রচনা করে মানুষ মানুষকে ঘৃণা ও অবজ্ঞার চোখে দেখছেন। সভ্যতা সংস্কৃতির আগ্রাসনও মানুষের মর্যাদাকে বিনষ্ট করছে। মানুষ অহমিকার গর্বে একটি পরম সত্যকে ভুলে যাচ্ছে যে, সকল মানুষ একই স্রষ্টার সৃষ্টি। পরিবেশ পরিস্থিতি ও নানা প্রতিকূলতার কারণে সম্পদ, শক্তি, শিক্ষা, প্রভাব- প্রতিপত্তিতে সকল মানুষ এক না হলেও এ বৈষম্যকে পুঁজি করে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা অনুচিত। শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্ম- বর্ণ, বংশ-গোত্র প্রভৃতি ক্ষেত্রে মানুষে-মানুষে পার্থক্য থাকলেও সকল মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-আবেগের অনুভূতি এক ও অভিন্ন সকল মানুষের রক্তধারা একই রঙে রঞ্জিত। তাই পার্থিব কিছু বিষয়কে মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করিয়ে মানুষে-মানুষে বিভেদের সৃষ্টি করার অর্থ হলো নিজের মনুষ্যত্ববোধকে বিনষ্ট করা। তাই একই স্রষ্টার সৃষ্টি হিসেবে মানুষকে ছোটো বা হেয় বলে বিবেচনা না করে সকল মানুষকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত ।

মন্তব্য : সকল মতবাদ, নীতি ও আদর্শের ওপরে স্থান দিতে হবে মানুষের মর্যাদাকে। মনে রাখতে হবে, মানব সত্যের ওপরে আর কোনো সত্য নেই।

আরও পড়ুনঃ

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে ভাব সম্প্রসারণ যেটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই ভাব সম্প্রসারণ নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Related posts

ভাবসম্প্রসারণঃ বিদ্যা অমূল্য ধন

Swopnil

অনুচ্ছেদঃ রূপসি বাংলা

Swopnil

রচনাঃ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ রচনা

Swopnil

Leave a Comment