নির্মিতিবাংলাভাবসম্প্রসারণ

ভাবসম্প্রসারণঃ বিদ্যার সঙ্গে সম্পর্কহীন জীবন অন্ধ এবং জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিদ্যা পঙ্গু

বিদ্যার সঙ্গে সম্পর্কহীন জীবন অন্ধ এবং জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিদ্যা পঙ্গু

আজকের পোস্টে তোমাকে স্বাগতম। আজকের এই পোস্টে আমরা একটি ভাবসম্প্রসারণ দেখব – বিদ্যার সঙ্গে সম্পর্কহীন জীবন অন্ধ এবং জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিদ্যা পঙ্গু। এই ভাবসম্প্রসারণটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাবসম্প্রসারণ। এটি অনেকবার পরীক্ষায় কমন পড়ে।

তুমি যেই শ্রেণিতেই পড়োনা কেন – এই ভাবসম্প্রসারণটি যদি তুমি মুখস্ত রাখো তাহলে তোমার পরীক্ষায় কমন পড়ার চান্স অনেক বেশি। আর এইজন্যই আজকে আমরা একটি খুবই সহজ এবং মুখস্ত করার মতো ভাবসম্প্রসারণ নিয়ে এসেছি।

তাহলে চলো, শুরু করা যাক।

বিদ্যার সঙ্গে সম্পর্কহীন জীবন অন্ধ এবং জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিদ্যা পঙ্গু

মূলভাব : বিদ্যাহীন ব্যক্তির জীবন যেমন অসার তেমনি জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিদ্যাও অকেজ।

সম্প্রসারিত ভাব : বিদ্যা মহামূল্যবান সম্পদ। মানব জীবনের সঙ্গে বিদ্যার সম্পর্ক অপরিহার্য। বিদ্যা সকল প্রকার অজ্ঞানতা দূর করে জীবনকে আলোকিত এবং সুন্দর করে তোলে। বিদ্যার সংস্পর্শে জীবন হয় মোহমুক্ত, সতেজ এবং আনন্দময়। বিদ্যাহীন মূর্খ ব্যক্তি অন্ধ লোকের সমতুল্য। একজন অন্ধ ব্যক্তি যেমন পৃথিবীর রূপ-সৌন্দর্য-আলো থেকে বঞ্চিত তদ্রূপ একজন বিদ্যাহীনও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। পক্ষান্তরে একজন পঙ্গু ব্যক্তি দৃষ্টিহীন না হলেও পঙ্গুত্বের কারণে জীবনের স্বাভাবিকতা থেকে বঞ্চিত। বিদ্যা যদি জীবনের সাথে সম্পর্কহীন হয় তবে সে বিদ্যাও পঙ্গু ব্যক্তির সমতুল্য । মানব সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেই মানুষ যথার্থ মানুষ হয় না। মনুষ্যত্ব অর্জনের জন্যে প্রয়োজন বিদ্যা লাভের সাধনা। সুন্দর এবং সাফল্যময় জীবন গড়তে হলে বিদ্যা অর্জন অপরিহার্য । কিছু বিদ্যা লাভ করে কেবল অক্ষরজ্ঞানের অধিকারী হলেই হবে না; অর্জিত বিদ্যাকে হতে হবে বাস্তবমুখী, কল্যাণকর এবং জীবনধর্মী। জীবনের সাথে সম্পর্কহীন, বিদ্যা মানব কল্যাণে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ। তাই জীবনের অন্ধত্ব দূর করার জন্যে বিদ্যার্জন যেমন প্রয়োজন, তেমনি জীবনের সঙ্গে বিদ্যার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আবশ্যক। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই মানসিক অন্ধত্ব দূর করার জন্য বিদ্যার্জন করা প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, অর্জিত বিদ্যাকে হতে হবে বাস্তবমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ ।

মন্তব্য : জীবন এবং বিদ্যা পরস্পর সম্পর্কিত। জীবনের সকল প্রকার উন্নতির জন্য প্রয়োজন বাস্তবমুখী শিক্ষার্জন।

আরও পড়ুনঃ

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে ভাব সম্প্রসারণ যেটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই ভাব সম্প্রসারণ নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Related posts

ভাবসম্প্রসারণঃ আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ অবনী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে

Swopnil

পত্রঃ একটি বনভোজনের বর্ণনা দিয়ে বন্ধুর নিকট পত্র লেখ

Swopnil

রচনাঃ শীতের সকাল / শীতকাল

Swopnil