রচনানির্মিতি

রচনাঃ সময়ের মূল্য

সময়ের মূল্য

আজকের পোস্টে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা শেয়ার করব “সময়ের মূল্য বাংলা রচনা“। এই রচনাটি আশা করি তোমাদের পরীক্ষায় কমন আসবে। আমরা এই রচনাটি যত সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করেছি – তোমাদের পড়তে সুবিধা হবে। চলো শুরু করা যাক।

সময়ের মূল্য

ভূমিকা 

ধেয়ে চলা সময়ের যাত্রাপথ অনন্ত প্রসারিত। কোনো আদ্য-বিন্দু থেকে কোনো অনন্তের সীমায় এর চলমান প্রবাহ তা নির্ণয় করা কঠিন। সময়ের যে কালচক্র অতীত হয়ে যায় তা আর কখনোই ফিরে আসে না। নদীর দুরন্ত স্রোতধারাকে ক্ষণিকের জন্যে হলেও বাধাগ্রস্ত করা যায় কিন্তু সময়ের ধাবমান প্রবাহকে কখনোই প্রতিহত করা যায় না। এ অনন্ত কাল-প্রবাহের মধ্যে মানুষের জীবন ক্ষুদ্র পরিসরে সীমাবদ্ধ। তাই মানবজীবনের এ অমূল্য সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর মধ্যেই জীবনের সার্থকতা ও সাফলতা নিহিত ।

মানবজীবন ও সময়ের গুরুত্ব 

মানবজীবন ক্ষুদ্র কিন্তু সময় অনন্ত। মানুষ তার ক্ষুদ্র-পরিসর জীবনে বহন করে চলে অসংখ্য দায়িত্বভার। সে চায় সংক্ষিপ্ত জীবন সীমার মধ্যে পরিকল্পিত ও স্বপ্নময় বহুবিধ কাজগুলোকে সমাপ্ত করতে। কিন্তু জীবনের সেতু পরিক্রমণ শেষ হলেই ঝরে পড়ে মানুষের কর্মমুখর জীবন। সীমাবদ্ধ সময়ের ক্ষুদ্রতর পরিসরে তাকে সম্পন্ন করতে হয় নানা কর্তব্য ৷ চিরজীবী হওয়া মানুষের অনন্ত আকাঙ্ক্ষা হলেও তা কোনো দিন পূরণ হবার নয়। জীবনের জন্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে শেষ করতে হয় কর্তব্য কর্ম। কিন্তু আলস্য, অবহেলা, অদূরদর্শিতা প্রভৃতি অপগুণ কর্তব্যকর্ম থেকে জীবনকে বিচ্যুত করে ফেলে। তখন আর সম্ভব হয় না সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জীবনের কর্তব্যকর্মগুলোকে শেষ করা। তখন অর্থহীন এক জীবন নিয়েই মানুষকে চিরবিদায় গ্রহণ করতে হয় পৃথিবী থেকে।

See also  রচনাঃ মাদকাসক্তি ও তার কুফল

সময়ের সদ্ব্যবহার 

জীবনের সীমাবদ্ধ পরিসরকে সময়ের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সফল করে তোলা প্রয়োজন। জীবনের পরিধিতে যেটুকু সময় পাওয়া যায় সেই সময়টুকুকে কাজে লাগিয়ে জীবনের উদ্দেশ্যকে সহজেই সফল করে তোলা যায়। তাই সবসময়ই সচেতন থাকা প্রয়োজন— যেন কোনোভাবেই সময়ের অপচয় না ঘটে। কারণ সময় একবার চলে গেলে তা আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায় না। আলস্য অবহেলায় মূল্যবান সময়কে কেউ যদি অপচয় করে তবে তার জীবনে অপূর্ণতা ও ব্যর্থতা অনিবার্য। সে জন্যে করণীয় কাজটি যথাসময়েই সম্পন্ন করা উচিত। অবহেলা করে কেউ যদি সময়কে উপেক্ষা করে তবে তার পক্ষে কখনোই ঈন্সিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তাই কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে—

“যে চাষা আলস্য ভরে

বীজ না বপন করে

পক্‌ শস্য পাবে সে কোথায়?’

সময়ের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে যারা সচেতন নয় তাদের জন্যে কবির এ বাণী এক চিরন্তন উচ্চারণ। তাই সোনালি ফসলে জীবনকে ভরে তুলতে হলে সময়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কাজ করে যেতে হবে। ভবিষ্যতের জন্যে কোনো কাজ ফেলে রাখলে তা এক সময় জড়ো হতে হতে এমন এক কঠিন আকার ধারণ করবে যে, তা আর কখনোই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে ওঠবে না । কিন্তু সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা কেউ সচেতন নই। আমরা সময়কে অপচয় করি আর ভাবি যে, ভবিষ্যতে তা পুষিয়ে নেবো কিন্তু সময়ের সহজ কাজটি ভবিষ্যতে মহা কঠিন কাজে পরিণত হয়। তাই বলা হয় – 

‘Time once gone is gone forever. Lost wealth may be regained by industry, lost knowledge by study, lost health by temperance and medicine but lost time cannot be recovered by any means.’ 

সময় সম্পর্কে যথার্থ মূলবোধই জীবনে সাফল্য বয়ে আনে। সময়ের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জীবন হয়ে ওঠে সার্থক ও সুখময় ।

See also  রচনাঃ আর্সেনিক দূষণ

ছাত্র-জীবন ও সময়ের মূল্যবোধ 

ছাত্রজীবন একটি সর্বোৎকৃষ্ট সময়। ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার একটি প্রস্তুতি পর্ব। ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর ও সাফল্যময় করে গড়ে তুলতে চরিত্রের যে গুণটির গুরুত্ব অপরিসীম তা হলো সময়ানুবর্তিতা বা সময়ের মূল্যবোধ। ছাত্র-জীবনকে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করে গড়ে তোলার অন্যতম উপায় হিসেবে সময়ের মূল্যবোধ সম্পর্কে প্রতিটি ছাত্র- ছাত্রীকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন । প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জনের জন্যে সময়ের সদ্ব্যয় এবং সাধনা প্রয়োজন। মূলত যোগ্যতা এবং দক্ষতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারলে তবেই ছাত্র জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে গড়ে তোলা সম্ভব। কেবল ছাত্রজীবন নয়— ক্ষুদ্র- পরিসর মানবজীবনের সাফল্যের ক্ষেত্রেও প্রত্যেককে সময়ানুবর্তী হওয়া প্রয়োজন ।

সময়ের অপচয় 

সময়ের মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞানতার কারণেই মানুষ নির্দ্বিধায় নিম্নের অপচয় করে থাকে। সময়ের অপচয় জীবনকে নিষ্ফলতায় ভরে তোলে। আলস্য, ঔদাসীন্য এবং নিরাসক্ত জীবনবোধ প্রভৃতি সময়ের মূল্য সম্পর্কে অসচেতনার মূল কারণ। সময় এক অদৃশ্য সহচর। নিঃশব্দ তার অনন্ত-যাত্রা। সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন না হলে কখনোই তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় না। সময় চিরদিনই মানুষকে ফাঁকি দিয়ে বর্তমানের সাঁকো পেরিয়ে চলে যাচ্ছে অতীতে। যে সময় চলে যায় তা আর কখনোই প্রত্যাবর্তন করে না। তাই প্রত্যেকের প্রয়োজন সময়ের প্রতিটি ক্ষণকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে জীবনে সাফল্য, সুখ এবং কল্যাণ অনিবার্য। কিন্তু মানুষ সময় সম্পর্কে সচেতন নয় বলেই মূল্যবান সময়ের অপচয়ের মাধ্যমে সে তার জীবনকে নানাবিধ ব্যর্থতায় ভরে তোলে। জীবনের সম্ভাবনাময় অনেক সাফল্যকে নির্বোধের মতো দূরে ঠেলে দেয়। জীবনে সফলকামের পূর্বশর্তই হচ্ছে সময়ের যথাযথ ব্যবহার। তাই মানুষের মূল্যবান জীবনকে সুচারুরূপে গড়ে তুলতে প্রয়োজন মূল্যবান সময় সম্পর্কে সচেতনতা। 

তাই বেঞ্জামিন ফ্যাঙ্কলিনের অভিমত-

‘যা তুমি আজ করতে পারো তা কালকের জন্য ফেলে রেখো না।’ 

সময়ের অপচয় ব্যক্তি জীবনের মতো জাতীয় জীবনকেও বিপর্যস্ত করে তোলে ।

সময়ানুবর্তিতার সুফল 

জীবনের সাফল্যের মূলে সময়ানুবর্তিতার কোনো বিকল্প নেই। সময় সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তিমাত্রই সফল জীবনের নির্মাতা। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.), সক্রেটিস, অ্যারিস্টটল, গৌতমবুদ্ধ, যিশুখ্রিষ্ট প্রমুখ বরেণ্য ব্যক্তি প্রত্যেকেই সময় সম্পর্কে সবিশেষ সচেতন ছিলেন। তাঁরা মনে করতেন যে, শত বছরের কর্মহীন জীবনের চেয়ে মাত্র কয়েক বছরের কর্মমুখর জীবন অনেক বেশি উজ্জ্বল এবং প্রদীপ্ত। যে ব্যক্তি জীবনে সময়কে যত বেশি মূল্য দেয় সে ব্যক্তি তত বেশি সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয় ।

‘নিতান্ত নির্বোধ যেই শুধু সেই জন

অমূল্য সময় করে বৃথায় যাপন।’

উপসংহার 

অনন্ত প্রবাহিত সময়স্রোতে জীবন নিতান্ত ক্ষণস্থায়ী স্বল্প দৈর্ঘ্য এক অধ্যায়। স্বল্পায়ু জীবনে মানুষের রয়েছে বিচিত্র কর্মের ভার। কর্মের মধ্য দিয়েই বিকশিত হয় জীবন। তাই জীবনে কর্ম সম্পাদনের জন্যে প্রয়োজন সঠিক সময়জ্ঞান। সময়ের সদ্ব্যবহারের মধ্যেই জীবনের কৃতিত্ব এবং সাফল্য নিহিত। তাই মহিমান্বিত জীবন গড়তে প্রত্যেককেই সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া আবশ্যক।

See also  রচনাঃ বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা

আশা করি আজকের পোস্টটি তোমাদের ভালো লেগেছে। তুমি যদি অন্য কোনো রচনা চাও তাহলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাও। ধন্যবাদ।

Related posts

পত্রঃ আসন্ন জে.এস.সি. পরীক্ষার প্রস্তুতি জানিয়ে বন্ধুকে একটি পত্র লেখ

Swopnil

পত্রঃ  সংবাদপত্র পাঠের উপকারিতা বর্ণনা করে বন্ধুকে পত্র লেখ

Swopnil

অনুচ্ছেদঃ শিশুশ্রম

Swopnil

Leave a Comment