অনুচ্ছেদনির্মিতিবাংলা

অনুচ্ছেদঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

আজকের পোস্টে তোমাকে স্বাগতম। আজকের এই পোস্টে আমরা একটি  অনুচ্ছেদ দেখব – বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। এইটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুচ্ছেদ। এটি অনেকবার পরীক্ষায় কমন পড়ে।

তুমি যেই শ্রেণিতেই পড়োনা কেন – এইটি যদি তুমি মুখস্ত রাখো তাহলে তোমার পরীক্ষায় কমন পড়ার চান্স অনেক বেশি। আর এইজন্যই আজকে আমরা একটি খুবই সহজ এবং মুখস্ত করার মতো অনুচ্ছেদ নিয়ে এসেছি।

তাহলে চলো, শুরু করা যাক।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সূর্য সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করেছে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র, আর লাল সবুজের পতাকা। এ স্বাধীন বাংলাদেশ অনায়াসে বাই অর্জিত হয় নি, এর পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। এ ইতিহাস যেমন বেদনায় বিধুর তেমনি গৌরবে ভাস্বর। ১৯৪৭ সালে উত্তা প্রায় দু’শত বছর ব্রিটিশ রাজত্বের অবসানে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভেঙ্গে ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ নামক দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের চ জন্ম হয়। বর্তমান বাংলাদেশ তৎসময়ে পূর্ব পাকিস্তান নামে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে গণ্য হয়। ইংরেজ রাজত্বের অবসান হলেও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতন থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। পূর্ব বাংলার প্রথম আঘাত আসে ভাষার ওপর। বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতিবাদে এদেশের তরুণ ছাত্রসমাজ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে। ৫২-র একুশে ফেব্রুয়ারিতে বুকের রক্ত দিয়ে এদেশের ছাত্রজনতা মাতৃভাষা স্বদেশের স্বপ্ন। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ৬ দফা, ‘৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে অনিবার্য বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তীতে একুশের রক্তরঞ্জিত প্রচ্ছদে উদ্ভাসিত হয় বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীন করে তোলে। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিশাল জনসমাবেশ থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ২৫ মার্চ কালোরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালানো হয় বর্বর হত্যাযজ্ঞ। ঐ রাতেই ইয়াহিয়া-চক্র শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে যায়। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। পুলিশ, ইপিআর, বাঙালি সৈনিকরা মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি প্রস্তুত করেন। বাঙালি সৈনিক আধাসামরিক লোক, পুলিশ, আনসার, ছাত্র-জনতা প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। ‘৭১-এর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যুনাথতলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করে। পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ-নির্যাতনও বর্বরতার বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ শুরু করা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকে না। বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। মুক্তি বাহিনীর প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন কর্ণেল (অব.) আতাউল গণি ওসমানী। হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে প্রায় এক কোটি লোক ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। পাক সেনারা জনগণের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, জঘন্য বর্বরতায় হাজার হাজার নরনারীকে নিমর্মভবে হত্যা করতে থাকে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় মহান বিজয়। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে রেসকোর্স ময়দানে পাক সেনাদের আত্মসমপর্ণের দলিল স্বাক্ষরিত হয়। এ দলিলে পাকিস্তানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন লেঃ জেনারেল এ কে নিয়াজি এবং মিত্র বাহিনী তথা ভারত ও বাংলাদেশ জয়েন্ট কমান্ডের পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল অরোরা। পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ গৌরবগাঁথা বাঙালির জাতীয় জীবনের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায় ।

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে যে আবেদন পত্রটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই পত্র নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Related posts

পত্রঃ কোনো একটি ঐতিহাসিক স্থানের বর্ণনা দিয়ে বন্ধুর নিকট পত্র লেখ

Swopnil

অনুচ্ছেদঃ পরিবেশ দূষণ

Swopnil

রচনাঃ বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা

Swopnil

Leave a Comment